Bkash App দিয়ে Payoneer একাউন্ট তৈরি করুন । Create Payoneer Account with Bkash

বিকাশ অ্যাপ দিয়ে পেওনিয়ার অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম ২০২৬

bKash to Payoneer Account Sign Up — ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ পদ্ধতি

বর্তমান ডিজিটাল যুগে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, এফিলিয়েট মার্কেটার এবং অনলাইন প্রফেশনালদের সংখ্যা দিন দিন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস (যেমন: Fiverr, Upwork, Freelancer) কিংবা গ্লোবাল ক্লায়েন্টদের থেকে উপার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা (ডলার, ইউরো বা পাউন্ড) নিরাপদে এবং দ্রুততম সময়ে দেশে নিয়ে আসার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে হলো পেওনিয়ার (Payoneer)। আর এই পেওনিয়ারের উপার্জিত টাকা কোনো ব্যাংকের দীর্ঘ লাইনে না দাঁড়িয়ে, কোনো অতিরিক্ত কাগজপত্রের ঝামেলা ছাড়া ইনস্ট্যান্ট বা তাৎক্ষণিকভাবে দেশের লোকাল কারেন্সিতে কনভার্ট করে পকেটে নিয়ে আসার সবচেয়ে চমৎকার ডিজিটাল সুবিধা দিচ্ছে বাংলাদেশের এক নম্বর মোবাইল আর্থিক সেবা বিকাশ (bKash)।
২০২৬ সালের সর্বশেষ প্রযুক্তিগত আপডেট অনুযায়ী, এখন আপনার কোনো প্রথাগত বাণিজ্যিক ব্যাংকের (Commercial Bank) অ্যাকাউন্ট না থাকলেও চলবে। আপনি শুধুমাত্র আপনার স্মার্টফোনে থাকা সচল বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে ঘরে বসেই সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক মানের একটি পেওনিয়ার অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিতে পারবেন। এই আর্টিকেলে আমরা ধাপে ধাপে স্ক্রিনশটসহ আলোচনা করব কীভাবে আপনি সঠিক উপায়ে বিকাশ অ্যাপ থেকে পেওনিয়ার অ্যাকাউন্ট খুলবেন, এর ভালো ও মন্দ দিকগুলো কী কী এবং কীভাবে ফ্রিল্যান্সিং-এর টাকা সরাসরি বিকাশে নিয়ে আসবেন।

📋 পেওনিয়ার অ্যাকাউন্ট খুলতে যা যা প্রয়োজন (Requirements for Payoneer Account)

বিকাশের মাধ্যমে পেওনিয়ার অ্যাকাউন্ট খোলার মূল প্রক্রিয়াটি শুরু করার আগে আপনার কাছে নিচের জিনিসগুলো বা তথ্যগুলো রেডি আছে কিনা তা নিশ্চিত হয়ে নিন। যেকোনো একটি তথ্যের ঘাটতি থাকলে আপনার অ্যাকাউন্টটি পরবর্তীতে ভেরিফিকেশন ব্লকে পড়তে পারে:
সচল বিকাশ অ্যাকাউন্ট (Active bKash App):
একটি সচল এবং সম্পূর্ণ গ্রাহক তথ্য বা কেওয়াইসি (KYC) ভেরিফাইড ব্যক্তিগত বিকাশ অ্যাকাউন্ট।
জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি (NID) কার্ড:
আপনার নিজের আসল এনআইডি কার্ড (স্মার্ট কার্ড হলে ভেরিফিকেশন দ্রুত হয়)। একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখবেন: যেহেতু আপনার বিকাশ অ্যাকাউন্টটি একটি নির্দিষ্ট এনআইডি দিয়ে খোলা, তাই পেওনিয়ারের সমস্ত তথ্যও সেই একই এনআইডি কার্ডের নামের বানান ও জন্ম তারিখের সাথে মিলিয়ে পূরণ করতে হবে। অন্য কারও এনআইডি তথ্য দিলে অ্যাকাউন্ট লিংক হবে না।
ব্যক্তিগত ইমেইল অ্যাড্রেস (Valid Gmail):
একটি সচল ও নিরাপদ ইমেইল আইডি, যা আগে কখনো কোনো পেওনিয়ার অ্যাকাউন্টে ব্যবহার বা রেজিস্টার করা হয়নি।
সচল মোবাইল নম্বর:
আপনার নিজস্ব সচল মোবাইল নম্বর (যে নম্বরে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা, সেটি ব্যবহার করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে)।

📌 ধাপে ধাপে বিকাশ অ্যাপ থেকে পেওনিয়ার অ্যাকাউন্ট খোলার সম্পূর্ণ নিয়ম

নিচে স্ক্রিনশটসহ প্রতিটি ধাপ বিস্তারিত এবং সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দেওয়া হলো, যাতে আপনার অ্যাকাউন্ট খোলার সময় কোনো টেকনিক্যাল ভুল না হয়:
ধাপ ১: বিকাশ অ্যাপে লগইন এবং রেমিটেন্স অপশন নির্বাচন
প্রথমে আপনার স্মার্টফোনে থাকা bKash App-টি ওপেন করুন এবং আপনার গোপন পিন (PIN) নম্বর দিয়ে লগইন করুন। অ্যাপের হোম স্ক্রিনে প্রবেশ করার পর আপনি বিকাশের বিভিন্ন সেবাসমূহ দেখতে পাবেন। অ্যাপের মূল মেনু থেকে Remittance বা রেমিটেন্স অপশনটি খুঁজে বের করুন এবং সেখানে ক্লিক করুন। নিচের স্ক্রিনশটটি ফলো করুন:
বিকাশ অ্যাপ হোম স্ক্রিন রেমিটেন্স অপশন
ধাপ ২: রেমিটেন্স পার্টনার মেনু থেকে পেওনিয়ার সিলেক্ট
রেমিটেন্স অপশনে ক্লিক করার পর আপনি একটি নতুন পেজ বা মেনু পাবেন, যেখানে বিকাশের গ্লোবাল রেমিটেন্স পার্টনারদের তালিকা দেখা যাবে। এখানে আন্তর্জাতিক পার্টনার হিসেবে Payoneer বা পেওনিয়ার এর লোগো ও নাম দেখতে পাবেন। আপনার ফ্রিল্যান্সিং রেমিটেন্স সেবা চালু করার উদ্দেশ্যে এই পেওনিয়ার মেনুটির ওপর ক্লিক করুন। নিচের স্ক্রিনশটটি লক্ষ্য করুন:
বিকাশ রেমিটেন্স পার্টনার পেওনিয়ার মেনু নির্বাচন
ধাপ ৩: নতুন পেওনিয়ার অ্যাকাউন্ট খোলার বাটন নির্বাচন
পেওনিয়ারে ক্লিক করার পর আপনার সামনে দুটি বিকল্প আসবে। একটি হলো—আপনার যদি আগে থেকেই কোনো অ্যাকাউন্ট থাকে তবে তা বিকাশের সাথে লিংক করার অপশন, এবং অন্যটি হলো সম্পূর্ণ নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার অপশন। যেহেতু আমরা নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করব, তাই নিচে স্ক্রিনশটে দেখানো পেওনিয়ার অ্যাকাউন্ট খুলুন (Open a Payoneer Account) বাটনটিতে ক্লিক করুন:
বিকাশে পেওনিয়ার অ্যাকাউন্ট খুলুন বাটন
ধাপ ৪: অ্যাকাউন্ট টাইপ বা ইন্ডিভিজুয়াল (Individual) নির্বাচন
এখন বিকাশ অ্যাপ আপনাকে পেওনিয়ারের অফিশিয়াল সুরক্ষিত সাইন-আপ পেজে রিডাইরেক্ট করে নিয়ে যাবে। এখানে আপনি Individual (ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট) এবং Company (কোম্পানি বা প্রাতিষ্ঠানিক অ্যাকাউন্ট) নামের দুটি অপশন দেখতে পাবেন। আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং বা কোনো অনলাইন আয়ের টাকা তোলার জন্য ব্যক্তিগতভাবে অ্যাকাউন্টটি করতে চান, তবে অবশ্যই প্রথম অপশন অর্থাৎ Individual (ইন্ডিভিজুয়াল) সিলেক্ট করবেন। নিচে স্ক্রিনশটটি দেখে নিন:
পেওনিয়ার সাইন আপ ইন্ডিভিজুয়াল অ্যাকাউন্ট টাইপ
ধাপ ৫: ব্যক্তিগত তথ্য, নাম এবং জিমেইল প্রদান
এই ধাপে পেওনিয়ারের প্রথম ফরমটি আপনার সামনে আসবে। এখানে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) কার্ডের সাথে হুবহু মিলিয়ে তথ্য সাবমিট করতে হবে:
First Name: আপনার নামের প্রথম অংশ (এনআইডি কার্ড অনুযায়ী ইংরেজি ক্যাপিটাল লেটারে)।
Last Name: আপনার নামের শেষ অংশ বা পদবি।
Email Address: আপনার সচল ব্যক্তিগত ইমেইল আইডিটি টাইপ করুন।
Date of Birth: আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র এবং বিকাশ অ্যাকাউন্টে দেওয়া আসল জন্ম তারিখটি ক্যালেন্ডার থেকে সঠিকভাবে সিলেক্ট করুন।
CAPTCHA Code: নিচে থাকা আঁকাবাঁকা সিকিউরিটি কেপচা কোডটি ডানপাশের বক্সে সঠিকভাবে টাইপ করুন এবং Register বাটনে ক্লিক করুন।
পেওনিয়ার পার্সোনাল ডিটেইলস এবং নাম ইমেইল পূরণ ফর্ম
ধাপ ৬: যোগাযোগের ঠিকানা এবং মোবাইল ভেরিফিকেশন
পরবর্তী স্ক্রিনে আপনার কন্টাক্ট ডিটেইলস বা যোগাযোগের ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে:
Address: আপনার এনআইডি কার্ডের পেছনে থাকা স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানাটি ইংরেজিতে স্পষ্ট করে লিখুন। ঠিকানা বড় হলে লাইন ১ এবং লাইন ২ মিলিয়ে লিখুন।
City / Town: আপনার নির্দিষ্ট জেলা বা শহরের নাম লিখুন।
Postal / Zip Code: আপনার এলাকার পোস্ট অফিসের ৪ বা ৫ ডিজিটের পোস্টাল কোডটি বসিয়ে দিন।
Mobile Number: আপনার সচল বিকাশ নম্বরটি এখানে প্রদান করুন।
Verification Code: নম্বরের পাশে থাকা Send Code অপশনে ক্লিক করলে আপনার ওই মোবাইল নাম্বারে একটি ৬ ডিজিটের ভেরিফিকেশন ওটিপি (OTP) কোড যাবে। সেই কোডটি নির্দিষ্ট বক্সে বসিয়ে দিয়ে নিচে থাকা Next বাটনে ক্লিক করুন।
পেওনিয়ার কন্টাক্ট ডিটেইলস ঠিকানা ও ওটিপি ভেরিফিকেশন
ধাপ ৭: লোকাল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা বিকাশ ওয়ালেট লিঙ্কআপ
পেওনিয়ার অ্যাকাউন্টের নিয়ম অনুযায়ী, সাইন আপ সম্পন্ন করতে একটি স্থানীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যুক্ত করতে হয়। বিকাশের মাধ্যমে খোলার কারণে এখানে আপনার ইন্টারফেসটি অনেক সহজ হয়ে যাবে।
Bank Country & Currency: দেশ হিসেবে Bangladesh এবং কারেন্সি BDT (বাংলাদেশী টাকা) স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাচিত থাকবে।
Bank Name & Branch Name: ব্যাংক নামের ঘরে বিকাশের নির্ধারিত পার্টনার ব্যাংক বা ওয়ালেটের নাম নকশা অনুযায়ী প্রদান করুন।
Account Holder Name & National ID: এটি অত্যন্ত ভাইটাল বা গুরুত্বপূর্ণ পার্টনার। যার নামে বিকাশ অ্যাকাউন্টটি রেজিস্টার্ড, ঠিক তাঁর নাম এবং তাঁর এনআইডি (NID) কার্ডের নম্বর ও তথ্যগুলোই এখানে ইনপুট দিতে হবে। কোনোভাবেই তথ্যের অমিল থাকা চলবে না।
পেওনিয়ার লোকাল ব্যাংক এবং এনআইডি কার্ড তথ্য পূরণ ফর্ম
ধাপ ৮: সিকিউরিটি ডিটেইলস পাসওয়ার্ড এবং চূড়ান্ত সাবমিশন
অ্যাকাউন্ট খোলার একদম শেষ ধাপে আপনার পেওনিয়ার অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তার জন্য নিচের তথ্যগুলো দিতে হবে:
Username: আপনার দেওয়া ইমেইল অ্যাড্রেসটিই আপনার ডিফল্ট ইউজার নেম বা লগইন আইডি হিসেবে গণ্য হবে।
Password: অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখার জন্য একটি স্ট্রং পাসওয়ার্ড দিন (এতে ইংরেজি বড় হাতের ও ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্ন যেমন- @, #, $ ব্যবহার করুন)। Re-type Password-এর ঘরে একই পাসওয়ার্ড পুনরায় টাইপ করুন।
Security Question & Answer: ড্রপডাউন মেনু থেকে একটি সহজ সিকিউরিটি প্রশ্ন সিলেক্ট করুন এবং নিচে তার উত্তর লিখে রাখুন (ভবিষ্যতে পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে বা অ্যাকাউন্ট লক হলে এটি রিকভার করতে অবশ্যই প্রয়োজন হবে)।
সব তথ্য দেওয়া শেষ হলে আইনি শর্তাবলীতে টিক চিহ্ন দিয়ে নিচে থাকা Submit বা সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন। আপনার পেওনিয়ার অ্যাকাউন্ট খোলার আবেদনটি সফলভাবে সম্পন্ন হবে।
পেওনিয়ার সাইন আপ কনফার্মেশন এবং সিকিউরিটি কোশ্চেন পেজ
ধাপ ৯: ইমেইল নোটিফিকেশন চেক ও অ্যাকাউন্ট অ্যাক্টিভেশন
আবেদন সাবমিট করার পর বিকাশের স্ক্রিনে আপনাকে অভিনন্দন জানানো হবে। এখন আপনার দেওয়া জিমেইল (Gmail) অ্যাকাউন্টের ইনবক্স চেক করুন। পেওনিয়ার থেকে আপনার কাছে একটি কনফার্মেশন মেইল আসবে যেখানে বলা হবে যে আপনার অ্যাকাউন্টটি বর্তমানে রিভিউ বা পর্যালোচনার অধীনে আছে। সাধারণত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বা সর্বোচ্চ ২-৩ কার্যদিবসের মধ্যে আপনার অ্যাকাউন্টটি সম্পূর্ণ সচল বা অ্যাপ্রুভ হয়ে যাবে।

✅ বিকাশ টু পেওনিয়ার ব্যবহারের ভালো দিক ও সুবিধা (Pros)

বিকাশের মাধ্যমে পেওনিয়ার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করার বেশ কিছু চমৎকার এবং বৈপ্লবিক ভালো দিক রয়েছে, যা নিচে তুলে ধরা হলো:
ইনস্ট্যান্ট ফান্ড ট্রান্সফার:
প্রচলিত ব্যাংকগুলোতে পেওনিয়ার থেকে টাকা পাঠালে তা আসতে ১ থেকে ৩ কর্মদিবস পর্যন্ত সময় লেগে যায় এবং সরকারি ছুটির দিনে টাকা আটক থাকে। কিন্তু বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে আপনি যেকোনো দিন (এমনকি শুক্রবার বা শনিবার গভীর রাতেও) মাত্র কয়েক সেকেন্ডে পেওনিয়ার থেকে টাকা বিকাশে নিয়ে আসতে পারবেন।
কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টের প্রয়োজন নেই:
বাংলাদেশে অনেকেরই বা বিশেষ করে তরুণ ফ্রিল্যান্সারদের লোকাল কমার্শিয়াল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকে না। বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি পেওনিয়ার অ্যাকাউন্ট খোলায় কোনো ব্যাংকিং খাতার ঝামেলাই পোহাতে হয় না।
সরকারি রেমিটেন্স বোনাস ও প্রণোদনা:
বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং আয়ের ডলার বৈধ রেমিটেন্স হিসেবে দেশে নিয়ে আসলে সরকারের পক্ষ থেকে নির্ধারিত রেমিটেন্স বোনাস বা ক্যাশব্যাক সুবিধা পাওয়া যায়, যা আয়ের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেয়।
ক্ষুদ্র বা কম পরিমাণ ডলার উত্তোলনের সুবিধা:
সাধারণ ব্যাংকে পেওনিয়ার থেকে টাকা তুলতে গেলে সর্বনিম্ন ৫০ ডলার বা তার বেশি উইথড্র করতে হয়। কিন্তু বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে আপনি অত্যন্ত কম পরিমাণ ডলারও (যেমন- মাত্র ১০০০ টাকার সমপরিমাণ ডলার) সরাসরি এক্সচেঞ্জ বা উইথড্র করে নিতে পারবেন।

⚠️ বিকাশ টু পেওনিয়ার ব্যবহারের মন্দ দিক ও অসুবিধা (Cons)

সুবিধার পাশাপাশি এই মাধ্যমের কিছু সীমাবদ্ধতা বা অসুবিধা রয়েছে যা আপনার জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি:
বিকাশের ক্যাশ আউট চার্জ:
পেওনিয়ার থেকে ডলার কনভার্ট হয়ে আপনার বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা হিসেবে জমা হওয়ার পর, সেই টাকা যখন আপনি কোনো এজেন্ট বা এটিএম থেকে তুলতে যাবেন, তখন আপনাকে বিকাশের নিয়মিত ক্যাশ আউট চার্জ (প্রতি হাজারে ১৫ থেকে সাড়ে ১৮ টাকা পর্যন্ত) দিতে হবে। বড় অংকের টাকার ক্ষেত্রে এই খরচটি বেশ লক্ষণীয় হতে পারে।
বিকাশ ওয়ালেটের লিমিট বা সীমা:
আমরা জানি যে একটি ব্যক্তিগত বিকাশ অ্যাকাউন্টে দৈনিক এবং মাসিক টাকা জমা (টাকা রিসিভ) এবং ক্যাশ আউটের একটি নির্দিষ্ট সীমা বা লিমিট থাকে। তাই আপনি যদি খুব বড় অংকের আন্তর্জাতিক লেনদেন বা ফ্রিল্যান্সিং পেমেন্ট পান, তবে বিকাশের লিমিট শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে পেমেন্ট আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এক্সচেঞ্জ রেটের তারতম্য:
পেওনিয়ার থেকে সরাসরি মূল ধারার ব্যাংকে টাকা পাঠালে মাঝে মাঝে ডলারের যে রেট পাওয়া যায়, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপগুলোর কনভার্সন রেট বা এক্সচেঞ্জ রেট তার থেকে সামান্য কম-বেশি হতে পারে।

💡 পেওনিয়ার অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখার কিছু জরুরি টিপস

ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট গেটওয়ে হওয়ায় পেওনিয়ারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কড়া। আপনার অ্যাকাউন্টটি হ্যাকিং বা ব্লক হওয়া থেকে বাঁচাতে নিচের নিয়মগুলো মেনে চলুন:
১. টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA) চালু রাখুন:
আপনার অ্যাকাউন্টে অবশ্যই টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন অন করে রাখবেন, যাতে পাসওয়ার্ড জানলেও কেউ ওটিপি ছাড়া লগইন করতে না পারে।
২. পাসওয়ার্ড শেয়ার করবেন না:
আপনার পেওনিয়ারের পাসওয়ার্ড বা বিকাশের পিন নম্বর কখনো কোনো থার্ড পার্টি অ্যাপ বা ব্যক্তির সাথে শেয়ার করবেন না।
৩. ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ করুন:
অ্যাকাউন্ট খোলার পর পেওনিয়ারের Verification Center-এ গিয়ে আপনার এনআইডি কার্ডের ফ্রন্ট ও ব্যাক পার্টের পরিষ্কার ছবি আপলোড করে প্রোফাইল ১০০% ভেরিফাইড করে নিন।

🏁 শেষ কথা

ডিজিটাল বাংলাদেশের স্মার্ট ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারকে আরও সহজ, গতিশীল এবং ঝামেলামুক্ত করতে বিকাশ এবং পেওনিয়ারের এই যৌথ পার্টনারশিপ এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আশা করি, ওপরের সম্পূর্ণ গাইডলাইন এবং স্ক্রিনশটগুলো দেখে আপনারা খুব সহজে কোনো টেকনিক্যাল ভুল ছাড়াই আপনাদের নিজস্ব পেওনিয়ার অ্যাকাউন্টটি খুলে বিকাশের সাথে লিংক করে নিতে পেরেছেন। অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে গিয়ে কোনো ধাপে সমস্যা হলে বা কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানান, আমরা দ্রুত সাহায্য করার চেষ্টা করব। পোস্টটি ইনফরমেটিভ মনে হলে আপনার ফ্রিল্যান্সার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। শুভকামনা আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের জন্য! ধন্যবাদ।
এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন
পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন
comment url